২১ দেশে প্রতি পাঁচ শিশুর একজন প্রযুক্তিনির্ভর যৌন নির্যাতনের শিকার: ইউনিসেফ

শিব্বীর আহমেদ, নিউ ইয়র্ক: ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। ইউনিসেফের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অন্তর্ভুক্ত ২১টি দেশের প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে প্রায় একজন গত এক বছরে প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত যৌন নির্যাতন বা যৌন শোষণের শিকার হয়েছে।

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ২১টি দেশ হলো—কম্বোডিয়া, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, ফিলিপাইন, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, ভিয়েতনাম, আর্মেনিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, মেক্সিকো, মন্টেনেগ্রো, উত্তর মেসিডোনিয়া, পাকিস্তান ও সার্বিয়া।

ইউনিসেফের গবেষণায় ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ২১ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফলে শিশুদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর যৌন সহিংসতার একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেমিং এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে শিশুদের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অপরাধীরা এসব মাধ্যম ব্যবহার করে শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, যৌন হয়রানি, প্রতারণা এবং যৌন উদ্দেশ্যে ছবি বা ভিডিও সংগ্রহ ও ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ইউনিসেফ বলছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত যৌন নির্যাতনের প্রকৃত মাত্রা আরও বেশি হতে পারে। কারণ অনেক শিশু ভয়, লজ্জা, সামাজিক চাপ কিংবা অপরাধীর হুমকির কারণে ঘটনা পরিবার বা কর্তৃপক্ষকে জানায় না।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের উপস্থিতি দ্রুত বাড়লেও তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে সেই গতিতে এগোয়নি। বয়স যাচাই, সন্দেহজনক আচরণ শনাক্ত করা, ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলা এবং শিশুদের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকার ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছে ইউনিসেফ। শিশুদের শুধু অনলাইন ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করাই যথেষ্ট নয়; তাদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিতে হবে।

ইউনিসেফ শিশুদের সুরক্ষায় শক্তিশালী আইন, কার্যকর নজরদারি এবং নিরাপত্তাকেন্দ্রিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি কোনো শিশু অনলাইনে নির্যাতনের শিকার হলে যাতে সহজে অভিযোগ জানাতে এবং দ্রুত সহায়তা পেতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ডিজিটাল প্রযুক্তি শিশুদের শিক্ষা, যোগাযোগ ও বিনোদনের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে একই প্রযুক্তি যখন যৌন নির্যাতন ও শোষণের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

ইউনিসেফের এই গবেষণা সেই ঝুঁকিরই একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। শিশুদের ডিজিটাল জীবন যত বিস্তৃত হচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান—সব পক্ষের দায়িত্বও তত বাড়ছে।