নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউইয়র্কের নির্বাচন আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন প্রায় ৩৫ হাজার সদস্য। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কুইন্সের কুইন্স প্যালেসে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় সহস্রাধিক সমর্থক ও নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্রার্থীর ব্যানার ও ফেস্টুন। নিজ নিজ প্যানেলের পক্ষে তারা স্লোগানও দেন।

নির্বাচনে একটি প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান কমিটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সভাপতি পদে আজমল হোসেন কুনু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ফিরোজ আহমেদ। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দুই প্রার্থীর বাড়িই সিলেট জেলায়। নিউইয়র্কে তারা একই রেস্টুরেন্ট ব্যবসার ব্যবসায়িক অংশীদার হলেও কমিউনিটির সংগঠনভিত্তিক রাজনীতিতে এবার তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সৈয়দ ফজলে রাব্বি।
রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসেরের সভাপতিত্বে মনোনয়নপত্র গ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাকে সহযোগিতা করেন নির্বাচন কমিশনার বদরুল হোসেন খান, শামসুদ্দিন আজাদ, রুহুল আমিন সরকার, আহবাব চৌধুরী, মিঠু হামিদ ও মিয়া মোহাম্মদ দুলাল।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্কে প্রায় ৩ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করলেও বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য হয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। সদস্য হতে ২০ ডলার চাঁদা দিতে হয়েছে। এ হিসাবে সদস্য চাঁদা থেকেই সংগঠনটির আয় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ডলার।
এবারের নির্বাচনে মোট ২১টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পদভেদে মনোনয়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার থেকে ৬ হাজার ডলার পর্যন্ত। সভাপতি পদে মনোনয়ন ফি ৬ হাজার ডলার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ হাজার ডলার। এছাড়া সদস্য পদে প্রার্থীদের মনোনয়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ডলার করে।
মনোনয়ন ফি’র এই হারকে কেন্দ্র করে কমিউনিটিতে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অনেকে বলছেন, একটি প্রবাসী সামাজিক সংগঠনের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য এত বেশি অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি ব্যতিক্রমী। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন ফি যথাক্রমে ৬ হাজার ও ৫ হাজার ডলার হওয়ায় এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ব্যয়ের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নির্বাচনের মনোনয়ন ফি ছাড়াও প্রচার-প্রচারণা, সভা-সমাবেশ, পোস্টার, ব্যানার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং সমর্থকদের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রার্থীদের উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যয়ের দিক থেকেও এবারের বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অন্যতম ব্যয়বহুল নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী ২৫ অক্টোবর ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই প্যানেলগুলোর প্রচার-প্রচারণা ও প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে।