বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর স্বাধীন তদারকির আহ্বান জাতিসংঘের

শিব্বীর আহমেদ, জাতিসংঘ, নিউ ইয়র্ক: বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের ওপর নজরদারির জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এ আহ্বান জানান।

ভলকার তুর্ক বলেন, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে।জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে স্বাধীনভাবে তদন্তের সুযোগ থাকা জরুরি।

জুলাই-আগস্টের ঘটনায় তদন্তের সুপারিশ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ওই প্রতিবেদনে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বেসামরিক তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের কার্যকর ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

সরাসরি জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণ নয়

তবে ভলকার তুর্কের বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। বরং জাতিসংঘের আহ্বান হলো—বাংলাদেশের নিজস্ব ব্যবস্থার মধ্যে এমন একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী জাতীয় প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে, যা আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করতে পারবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারবে।জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সর্বশেষ বক্তব্যে আগের সুপারিশগুলোর ধারাবাহিকতায় এই বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পেয়েছে।