পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার নিন্দা বাংলাদেশের

ঢাকা: অধিকৃত পশ্চিম তীরের ই১ এলাকায় বসতি নির্মাণ সম্প্রসারণের ইসরায়েলি পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকেও আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পশ্চিম তীরের ই১ এলাকায় পরিকল্পিত বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের পরিপন্থী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের নির্মাণকাজ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একই সঙ্গে একটি কার্যকর ও স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও এতে আরও সংকুচিত হবে। বাংলাদেশ ইসরায়েলকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সব ধরনের বসতি কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ ও অবিচ্ছেদ্য অধিকারের প্রতি তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মধ্যে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমারেখার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারও রয়েছে।

ঢাকা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করে—এমন যেকোনো পদক্ষেপ ঠেকাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়সংগত, সর্বাঙ্গীণ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এবং তাদের স্বাধীনতা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বৈধ আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

পশ্চিম তীরের ই১ এলাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক চাপও বেড়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশ পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।