ঢাকা: গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা কর পরিশোধের পথ খুলে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির করা দুটি রিটের ওপর আগে জারি করা রুল খারিজ করে বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছেন আদালত।বিচারপতি মো. মোজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ রায় দেন। আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত পাঁচ করবর্ষের জন্য মোট ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা আয়কর পরিশোধ করতে হবে। এই কর দাবি নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিরোধ চলছিল। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার কর অঞ্চল-১৪ পৃথক দুটি নোটিশে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ওই পাঁচ করবর্ষের জন্য প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দাবি করে। পরে কর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করে।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ২০১৭ সালে রুল জারি করেন এবং কর দাবিসংক্রান্ত নোটিশের কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়। মামলাটির বিচারিক ইতিহাসে এর আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে। ২০২৪ সালের আগস্টে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের দুটি রিট খারিজ করে কর পরিশোধের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। তবে পরে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রস্তুতের সময় বেঞ্চের একজন বিচারপতি জানান, অতীতে তিনি রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি সামনে আসার পর ওই রায় প্রত্যাহার করা হয় এবং মামলাটি নতুন করে শুনানির জন্য পাঠানো হয়।
এর আগে হাইকোর্টের একটি রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আপিল বিভাগে আবেদন করলে চলতি বছরের ১১ মার্চ সর্বোচ্চ আদালত বিষয়টি মূল বিষয়ে পুনরায় শুনানির নির্দেশ দেন। এরপর নতুন করে শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রুল দুটি খারিজ করে দেওয়া হয়। গ্রামীণ কল্যাণ একটি অলাভজনক সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠা করেন।
আজকের রায়ের ফলে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবি করা ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা কর আদায়ের ক্ষেত্রে আইনি বাধা দূর হলো। তবে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবীরা এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। পূর্ববর্তী পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষের আইনজীবী হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছিলেন।