শিব্বীর আহমেদ, নিউ ইয়র্ক: গ্রেপ্তার, নির্যাতন এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের বাংলা সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে ফেরার পর তাঁর সঙ্গে কী ঘটতে পারে, সে বিষয়ে তিনি অবগত। দেশে পৌঁছানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে কিংবা অজ্ঞাত কোনো স্থানে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
তবে এসব ঝুঁকি তাঁকে দেশে ফেরা থেকে বিরত রাখতে পারবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি পরিস্থিতির সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আকাশপথে কিংবা সড়কপথে—যেভাবেই দেশে ফিরুন না কেন, বাংলাদেশে প্রবেশের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে তিনি জানেন।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়েও কথা বলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দলের নেতৃত্বে কোনো ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মতো কাঠামো রয়েছে। অতীতেও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দলটি কার্যক্রম চালিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং দেশের রাজনীতিতে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।জামায়াতে ইসলামীর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে দলটি পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছিল। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে যে বিচারপ্রক্রিয়া চলছে, সেটিও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে না। সাক্ষাৎকারে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তাঁর মতে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর না করা নিয়েও প্রশ্নের জবাব দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তারেক রহমানের লন্ডনে দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যেমন বন্ধ হয়নি, তেমনি তাঁর একটি বক্তব্যের কারণে তারেক রহমানের ভারত সফর আটকে যাওয়ার দাবিও সঠিক নয়।
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা শেখ হাসিনা এর আগেও জানিয়েছিলেন। ১০ জুলাই ২০২৬ রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বরের দিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন।
সুতরাং, আনন্দবাজারের সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বক্তব্যটি তাঁর আগের ঘোষণারই ধারাবাহিকতা, তবে এবার তিনি দেশে ফেরার সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আরও বিস্তারিত কথা বলেছেন।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, রয়টার্স