নিউইয়র্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম শুক্রবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সপ্তাহজুড়ে তেলের দামে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম শুক্রবার একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের ওপরে উঠে যায়। পরে কিছুটা কমলেও দাম ১০৪ ডলারের আশপাশে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দামও ১০০ ডলারের কাছাকাছি ওঠানামা করেছে। বৃহস্পতিবার উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। সপ্তাহের হিসাবে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুটিই ৮ শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধির পথে রয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
বাজারে তেলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাকে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জাহাজ চলাচলে নতুন করে বিঘ্ন দেখা দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঘটনাও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার প্রভাবে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন আগস্টে দৈনিক প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেলে নেমে আসে, যা প্রায় তিন দশকের মধ্যে দেশটির সর্বনিম্ন উৎপাদন মাত্রা।
তেলের দাম বাড়ার প্রভাব ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে উঠেছে, যা পরিবহন, কৃষি ও অন্যান্য খাতের ব্যয় বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানির উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ছিল। বুধবার ব্রেন্টের দাম জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরপর বৃহস্পতিবারের বড় উত্থানে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুটিই ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
বাজারসংশ্লিষ্টদের নজর এখন কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনার দিকে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তেলের দামে কিছুটা চাপ কমতে পারে। তবে সংঘাত ও সরবরাহ বিঘ্ন দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কীভাবে এগোয় এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলো কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, তার ওপর আগামী দিনে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে।