মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় ১০০ ডলারের দিকে ছুটছে তেলের দাম

শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে মঙ্গলবার তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.৪৬ ডলারে উঠে যায়। এটি ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ দাম। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডও বেড়ে ৯৪.৭৩ ডলারে পৌঁছে, যা ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ।

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহর ও জ্বালানি স্থাপনায় ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলার পর বাজারে এই অস্থিরতা আরও বেড়েছে। হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্স জানায়, গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৯৮.৩৯ ডলারে এবং WTI প্রায় ৯৩.৭৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।

বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের উৎপাদন ও রপ্তানি অবকাঠামো দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

মূল্যস্ফীতির নতুন চাপ

তেলের দাম বাড়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে পেট্রল, ডিজেল, পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তও জটিল হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি ব্যয়ের সম্ভাব্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে।

১০০ ডলারের সীমা ভাঙবে কি?

বাজারের এখন বড় প্রশ্ন—ব্রেন্ট ক্রুড কি স্থায়ীভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠবে? রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরবরাহে ঝুঁকি বাড়লেও বিকল্প রপ্তানি পথ, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দুর্বল চাহিদা এখনো তেলের দামকে ১০০ ডলারের ওপরে স্থায়ীভাবে ওঠার ক্ষেত্রে কিছুটা বাধা দিচ্ছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে এবং সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। সংঘাত কতটা বিস্তৃত হয় এবং তেল উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থায় এর প্রভাব কতটা পড়ে—তার ওপরই এখন বিশ্ববাজারে তেলের দামের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে।