কিয়েভ: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে মঙ্গলবার ভোরে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ৩ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইউক্রেন সফর শেষ করার পরপরই এই হামলা চালানো হয়।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন, একটি স্কুল, একটি ক্লিনিক এবং একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া বিপুলসংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায়। ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও কিছু অস্ত্র রাজধানীতে আঘাত হানে। হামলার সময় কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর মধ্যে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয়ও রয়েছে।
শান্তি প্রচেষ্টার মধ্যেই হামলা
কিয়েভে নতুন করে রুশ হামলা এমন সময় হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালাচ্ছে। মার্কিন দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে তারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও আলোচনা করেন।
জেলেনস্কি বলেছেন, মার্কিন দূতরা শান্তি আলোচনার জন্য কিছু “ভালো ধারণা” নিয়ে এসেছেন। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনায় কোনো বড় ধরনের অগ্রগতি বা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসেনি। জেলেনস্কির মতে, ভবিষ্যৎ আলোচনায় শস্য রপ্তানি, জ্বালানি অবকাঠামো এবং যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার প্রস্তুতিও চলছে।
কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ
সাম্প্রতিক হামলা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। কিয়েভের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, শীত মৌসুম সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়া যদি জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বাড়ায়, তাহলে বেসামরিক জনগণের ওপর চাপ আরও তীব্র হতে পারে।
কিয়েভে হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনের অন্যান্য এলাকাতেও রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রচেষ্টা যখন নতুন করে গতি পাওয়ার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই কিয়েভে এই হামলা যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কতটা নাজুক, তা আবারও স্পষ্ট করে দিল।