২০ বছর পর ইরানের পরমাণু ইস্যু জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে

ভিয়েনা: দীর্ঘদিন ধরে চলা পরমাণু তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদ বুধবার ইরানের পরমাণু ইস্যু জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম ইরানের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিল আইএইএ।

ভিয়েনায় আইএইএর সদর দপ্তরে ৩৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। এর পক্ষে ভোট দেয় ২৩টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দেয় রাশিয়া, চীন ও নাইজার। আটটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে এবং একটি দেশ ভোট দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেয়।

ইরানের বিরুদ্ধে আইএইএর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে দেশটির বিভিন্ন অঘোষিত স্থানে পাওয়া ইউরেনিয়ামের চিহ্ন। এসব চিহ্নের উৎস এবং ইরানের অতীত পরমাণু কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দিতে তেহরান সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ করেছে আইএইএ।

পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, অঘোষিত স্থাপনায় পাওয়া ইউরেনিয়ামের চিহ্ন ইঙ্গিত দিতে পারে যে ২০০৩ সালের আগে ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনা করেছিল। তবে ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক ব্যবহারের জন্য পরিচালিত হচ্ছে।

ইরান আইএইএর সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির বক্তব্য, চলমান সামরিক সংঘাত এবং ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার কারণে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের জন্য নিরাপদে বিভিন্ন স্থাপনায় প্রবেশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

আইএইএর এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। বিষয়টি এখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গড়ালে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বা অন্যান্য পদক্ষেপের আলোচনা হতে পারে। তবে নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া ও চীনের ভেটো ক্ষমতা থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আইএইএর এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের পরিধি বাড়ছে। ফলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে।

আইএইএর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ করা প্রায় ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে। এই মাত্রার সমৃদ্ধকরণ অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের নিচে হলেও বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় অনেক বেশি। তবে এই মজুতের উপস্থিতি নিজেই ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে—এমন প্রমাণ নয়।

২০ বছর পর ইরানের পরমাণু ইস্যু আবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সামনে যাওয়ায় তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ নতুন মাত্রা পেল। একই সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমাধানের পথও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।