শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রধান সূচক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে—বিনিয়োগকারীদের এমন আশঙ্কাই তেলের বাজারে চাপ তৈরি করছে।
সাম্প্রতিক এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা এবং ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের মাত্রা বাড়তে থাকায় জ্বালানি অবকাঠামো এবং তেল পরিবহনপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
তেলের দাম বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানির মূল্য দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থানে থাকলে পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে পেট্রোল, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামে।
এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর প্রচেষ্টাও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা না কাটলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও অস্থির থাকতে পারে। ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক মাইলফলক। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সম্ভাব্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাবেরও বড় একটি সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।