সম্পাদকীয়: গণতন্ত্রের শক্তি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি নয়

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব কেবল নির্বাচন আয়োজনের ওপর নির্ভর করে না; বরং নির্ভর করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, জবাবদিহি, আইনের শাসন এবং নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর। রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তন হতে পারে, নেতৃত্ব বদলাতে পারে, কিন্তু শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তাই সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হওয়া উচিত—কে ক্ষমতায় আছে, তার চেয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক। নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় সরকার—প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।

রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে—এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধ যেন প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল না করে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের যেমন জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে, তেমনি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকেও গণতান্ত্রিক নিয়ম ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যেখানে ক্ষমতার পরিবর্তনকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়, জনগণের স্বার্থে কাজ করবে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের জন্য এটাই বড় পরীক্ষা—ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠাননির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী করা যায়।