শিব্বীর আহমেদ, জাতিসংঘ, নিউ ইয়র্ক: দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে অবিলম্বে সংঘর্ষ বন্ধ এবং লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ৮ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক জানান, নাবাতিয়েহ ও এর আশপাশে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান তীব্র হওয়ায় বেসামরিক মানুষের হতাহত ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে মহাসচিব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। পাশাপাশি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও বাস্তুচ্যুতি বাড়ছে। নাবাতিয়েহ জেলায় ব্যাপক ধ্বংস ও বিপর্যয়ের দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তর ওসিএইচএ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে নাবাতিয়েহ জেলা থেকে প্রায় ৫ হাজার পরিবার বা ২০ হাজার মানুষ অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। একই সময়ে ওই এলাকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব বিশেষভাবে হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকর্মী ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলার খবর এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে হবে। বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনা সব সময় সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং তাদের লক্ষ্য করে কোনো হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।
মহাসচিব অবিলম্বে সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ইসরায়েলকে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখাতে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের অধীনে নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এদিকে জাতিসংঘের লেবাননে শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। এর মধ্যে স্থল অভিযান, গোলাবর্ষণ, বিমান হামলা এবং লেবাননের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা রয়েছে।
ইউনিফিলের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ছোড়া মোট ৫২৮টি গোলা বা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। রোববার এক দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর লেবাননের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ৬২টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়, যা জুনের পর এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যাগুলোর একটি। একই দিনে ২১ জুনের পর প্রথমবারের মতো হিজবুল্লাহর ছোড়া একটি গোলাও শনাক্ত করেছে ইউনিফিল।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সব পক্ষের সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি পূর্ণ সম্মান জরুরি। জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, সহিংসতা বন্ধ, বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা এবং সংঘাতের একটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ এগিয়ে নিতে জাতিসংঘ তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।