শিশু সাহিত্যিক আমিরুল ইসলাম আর নেই

ঢাকা: বাংলা শিশুসাহিত্যের বিশিষ্ট লেখক, ছড়াকার ও গণমাধ্যমকর্মী আমিরুল ইসলাম আর নেই। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৭ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম।

আমিরুল ইসলামের মৃত্যুতে বাংলা শিশুসাহিত্য ও দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে গল্প, ছড়া এবং বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল লেখা রচনার মাধ্যমে তিনি পাঠকদের কাছে পরিচিত ও প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। তার লেখায় শিশুদের কল্পনাশক্তি, আনন্দ, মানবিক মূল্যবোধ এবং সৃজনশীলতার নানা দিক উঠে এসেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আমিরুল ইসলামের জানাজা ও দাফনের সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। তার পরিবার এবং দীর্ঘদিনের কর্মস্থল চ্যানেল আই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।

দুই শতাধিক বইয়ের রচয়িতা

১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমিরুল ইসলাম। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি শিশুদের জন্য বিপুলসংখ্যক বই রচনা করেন। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দুই শতাধিক। গল্প, ছড়া এবং বিভিন্ন সৃজনশীল রচনার মধ্য দিয়ে তিনি শিশুদের সাহিত্যজগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। তার সাহিত্যকর্মের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল শিশু-কিশোরদের উপযোগী নানা বিষয়। সহজবোধ্য ভাষা ও সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে শিশুদের কাছে সাহিত্যকে আনন্দময় করে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ভূমিকা রাখেন।

বাংলা শিশুসাহিত্যে তার দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিও এসেছে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় থেকে। ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এই পুরস্কার তার সাহিত্যকর্মের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

সাহিত্য ও গণমাধ্যম—দুই অঙ্গনেই সক্রিয়

শুধু লেখালেখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না আমিরুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের গণমাধ্যমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তার দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেটেছে চ্যানেল আইয়ে। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি গণমাধ্যমে কাজ করার ফলে শিশু-কিশোরদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে তার যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হয়। লেখক হিসেবে তিনি যেমন শিশুদের জন্য লিখেছেন, তেমনি গণমাধ্যমকর্মী হিসেবেও দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন। তার সাহিত্য ও পেশাজীবনের এই দুই ধারার সমন্বয় তাকে দেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে একটি পরিচিত মুখে পরিণত করেছিল।

শিশুসাহিত্যে দীর্ঘ অবদান

বাংলা সাহিত্যের বিস্তৃত পরিসরে শিশুসাহিত্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এই শাখায় লেখকের দায়িত্ব শুধু শিশুদের আনন্দ দেওয়া নয়; একই সঙ্গে তাদের কল্পনাশক্তি, চিন্তাশক্তি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেও ভূমিকা রাখা। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে আমিরুল ইসলাম এই ক্ষেত্রেই কাজ করে গেছেন। দুই শতাধিক প্রকাশিত বই তার দীর্ঘ সাহিত্যচর্চার ব্যাপ্তিরই প্রমাণ। গল্প ও ছড়ার পাশাপাশি নানা ধরনের সৃজনশীল লেখার মাধ্যমে তিনি শিশুদের পাঠাভ্যাস ও সাহিত্যচর্চার জগতে অবদান রেখেছেন। তার লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অর্জন তার সাহিত্যিক অবস্থানকে আরও প্রতিষ্ঠিত করে।

সহকর্মী ও পাঠকদের মাঝে শোক

আমিরুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাহিত্য ও গণমাধ্যম অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সহকর্মী, সাহিত্যিক, প্রকাশক এবং তার লেখার পাঠকদের কাছে তার মৃত্যু একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষ করে বাংলা শিশুসাহিত্যে তার দীর্ঘ অবদান এবং বিপুলসংখ্যক প্রকাশিত বই তাকে আগামী দিনেও পাঠকদের কাছে স্মরণীয় করে রাখবে। তার লেখা ও সৃষ্টিশীল কর্ম শিশু-কিশোরদের সাহিত্যভুবনে তার উপস্থিতিকে ধরে রাখবে।

শেষ বিদায়ের অপেক্ষা

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আমিরুল ইসলামের জানাজা ও দাফনের স্থান ও সময় চূড়ান্ত হয়নি। পরিবার ও তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানা গেছে।বাংলা শিশুসাহিত্যে দীর্ঘদিনের অবদান রাখা এই লেখকের প্রয়াণে দেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। দুই শতাধিক বইয়ের স্রষ্টা আমিরুল ইসলাম তার সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে পাঠকের কাছে বেঁচে থাকবেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।