শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি – ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ স্থানান্তর ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ডিজিটাল সম্পদ বিনিময় প্রতিষ্ঠান, একটি সফটওয়্যার উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ওএফএসি) বৃহস্পতিবার বিটব্যাংক (BitBank) নামের একটি ইরানি ডিজিটাল সম্পদ বিনিময় প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। একই সঙ্গে বিটব্যাংকের সফটওয়্যার উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান পিশতাজ সিমোরঘ ইলেকট্রনিক ট্রেড কোম্পানি (Pishtaz Simorgh Electronic Trade Company) এবং তিন ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা ইরানের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ স্থানান্তরের অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করেছে। এই পদক্ষেপ অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট (Operation Economic Outcast) নামের মার্কিন অর্থনৈতিক অভিযানের অংশ।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইরানি অর্থ ব্যবসায়ী বাবাক জাঞ্জানি (Babak Zanjani)-র নিয়ন্ত্রণাধীন বিটব্যাংক ব্যবহার করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (Islamic Revolutionary Guard Corps—IRGC) কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও ডিজিটাল মুদ্রা স্থানান্তর করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ে বিটব্যাংকের মাধ্যমে শত শত কোটি ডলার মূল্যের বিটকয়েন স্থানান্তরে জাঞ্জানি ভূমিকা রেখেছেন।
বিটব্যাংকের সফটওয়্যার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত পিশতাজ সিমোরঘ ইলেকট্রনিক ট্রেড কোম্পানিকেও একই নির্বাহী আদেশের আওতায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি জাঞ্জানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সম্পদভিত্তিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করেছে।
এ ছাড়া হোসেইন আলি জাকের হোসেইন (Hossein Ali Zaker Hossein), মোহাম্মদ মাহদি জাকের হোসেইন (Mohammad Mahdi Zaker Hossein) এবং সেইয়েদ আদেল হেইদারি (Seyed Adel Heidari)-এর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা জাঞ্জানির প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী এবং ইরানের নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর ডিজিটাল সম্পদভিত্তিক নেটওয়ার্ক পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট শুরু করা হয়। এই অভিযানের আওতায় ইরানের তেল পাচার, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ লেনদেন এবং অবৈধ রাজস্ব সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক নেটওয়ার্কগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেল পরিবহন, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল এবং ডিজিটাল সম্পদ খাতের বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে।
বৃহস্পতিবারের পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষভাবে ইরানের ডিজিটাল সম্পদভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর ব্যবস্থার ওপর নজরদারি জোরদার করার বার্তা দিয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের হয়ে অর্থপাচার বা নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কাজে সহায়তা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ভবিষ্যতে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের এই অভিযোগ ও পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা নীতির অংশ; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে পাল্টা বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।