কিউবার সামরিক ও নিকেল খাতে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি — কিউবার সামরিক সক্ষমতা এবং দেশটির খনিজ সম্পদ থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণ সীমিত করার লক্ষ্যে আটটি প্রতিষ্ঠান ও তিন ব্যক্তির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, নতুন পদক্ষেপের আওতায় কিউবার সামরিক গবেষণা ও উন্নয়ন এবং নিকেল ও খনিজ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে। নিষেধাজ্ঞাগুলো ২০২৬ সালের ১ মে জারি করা নির্বাহী আদেশ ১৪৪০৪-এর আওতায় দেওয়া হয়েছে। ওই আদেশে কিউবার প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী, ধাতু ও খনিজ, জ্বালানি, আর্থিক সেবা এবং নিরাপত্তা খাতের নির্দিষ্ট বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সামরিক খাতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা চারটি প্রতিষ্ঠান হলো সিমুলেটর গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র (SIMPRO), নৌ গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র (CIDNAV), পদাতিক অস্ত্র গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র (CIDAI) এবং গ্রিতো দে বাইরে গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদন কেন্দ্র (GELCOM)।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিমুলেটর গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র কিউবার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনীসহ সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ ও সিমুলেটর তৈরি করে। নৌ গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র কিউবার বিপ্লবী নৌবাহিনীর গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত। পদাতিক অস্ত্র গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র পদাতিক অস্ত্রের উন্নয়ন, সংগ্রহ, আধুনিকায়ন ও মূল্যায়ন নিয়ে কাজ করে। আর গ্রিতো দে বাইরে কেন্দ্র ইলেকট্রনিক ও যোগাযোগ সরঞ্জাম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত।

এই চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটির মহাপরিচালকের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন জোয়াকিন ফ্রান্সিসকো কানসিও মন্তেয়াগুদো, দিওগ্লিস পেদেরেরা আরগুয়েইয়ো এবং জুলিও হুরতাদো বেতানকুর্ত। এ ছাড়া কিউবার নিকেল খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও চারটি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। এগুলো হলো কম্পিউটার, যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিকস কারিগরি সেবা প্রতিষ্ঠান (SERCONI), নিকেল প্রকৌশল ও প্রকল্প প্রতিষ্ঠান (CEPRONIQUEL), ক্যাপিতান আলবের্তো ফের্নান্দেস মন্তেস দে ওকা নিকেল গবেষণা কেন্দ্র (CEDINIQ) এবং পিনারেস এস.এ. (PINARES S.A.)।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এসব প্রতিষ্ঠান কিউবার নিকেল শিল্পে কারিগরি সেবা, প্রকৌশল, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং খনিজ সম্পদ জরিপের সঙ্গে যুক্ত। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা মার্কিন নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পদ ও সম্পত্তির স্বার্থ অবরুদ্ধ করা হবে। অনুমোদন বা ছাড় না থাকলে মার্কিন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এসব অবরুদ্ধ সম্পদের সঙ্গে লেনদেন করতে পারবে না।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর জানিয়েছে, নির্বাহী আদেশ ১৪৪০৪-এর নিষেধাজ্ঞা কিউবার ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর পাশাপাশি কার্যকর রয়েছে। চলতি বছর কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞার সর্বশেষ পদক্ষেপ এটি। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও কিউবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ আহরণের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার ঘোষিত উদ্দেশ্য হলো কিউবা সরকারের আচরণে পরিবর্তন আনা।