ইরান নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ প্রস্তাবে রাশিয়া-চীনের ভেটো

শিব্বীর আহমেদ, নিউ ইয়র্ক — ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞ দলের কার্যক্রম আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত প্রস্তাবটি ভোটে ১১ সদস্যের সমর্থন পেলেও রাশিয়া ও চীনের ভেটোর কারণে তা পাস হয়নি। পাকিস্তান ও সোমালিয়া ভোটদানে বিরত ছিল।

প্রস্তাবটির লক্ষ্য ছিল ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য লঙ্ঘনের বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদকে প্রতিবেদন দেওয়া বিশেষজ্ঞ দলের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং দেশটির ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার আইনগত বৈধতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যেই এই ভোট অনুষ্ঠিত হলো। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি ২০২৫ সালে ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির আওতায় থাকা ‘নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল’ প্রক্রিয়া চালু করে। তাদের অভিযোগ ছিল, ইরান চুক্তির পরমাণু-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। এর পর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয়।

তবে রাশিয়া ও চীন এ প্রক্রিয়ার আইনগত বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাও শেষ হয়ে গেছে। রাশিয়ার জাতিসংঘ দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত প্রস্তাবটির আইনগত ভিত্তি নেই এবং ইরানের পরমাণু ইস্যু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও চীনের ভেটোর সমালোচনা করেছে। মার্কিন উপ-জাতিসংঘ দূত জেনিফার লোকেটা বলেন, স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল না থাকলে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণে ঘাটতি তৈরি হবে।

ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কয়েকটি সদস্যও ভেটোর সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, ভেটোর কারণে বিশেষজ্ঞ দলের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব আটকে গেলেও তাদের বিবেচনায় ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দেশটির বিদেশি সম্পদ জব্দ, অস্ত্র লেনদেনে বিধিনিষেধ এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ আরও গভীর হয়েছে।

সর্বশেষ ভোটের মধ্য দিয়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞার আইনগত অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণব্যবস্থা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।