শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক: টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী, পূর্বানুমানযোগ্য এবং তাদের ঝুঁকি ও দুর্বলতাসংবেদনশীল অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোতে ব্যাপক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ টিটুমির। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ভবনে জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত ২০২৬ এসডিজি মোমেন্টের ‘লিডিং এসডিজি অ্যাকশন’ শীর্ষক লিডার্স ডায়ালগে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
ড. টিটুমির বলেন, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কারের ক্ষেত্রে বৃহত্তর ও ভবিষ্যৎমুখী একটি অভিন্ন লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন। এমন একটি বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা শুধু উন্নয়নে অর্থায়ন করবে না; বরং উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করার প্রয়োজনীয় পরিবেশও তৈরি করবে। তিনি বলেন, “আমাদের বৃহত্তর লক্ষ্য হওয়া উচিত সম্মিলিত ও ভবিষ্যৎমুখী—এমন একটি বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো, যা শুধু উন্নয়নে অর্থায়ন করবে না, বরং যে পরিবেশে উন্নয়ন টেকসই হতে পারে, সেই পরিবেশও তৈরি করবে।”
আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো, বিশেষ করে বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর সংস্কারে পাঁচটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন ড. টিটুমির। এসবের মধ্যে রয়েছে—সংকট দেখা দেওয়ার পর তা মোকাবিলার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকি ও দুর্বলতা শনাক্ত করে প্রস্তুতি নেওয়া; আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্বল দেশগুলোর অধিকতর কার্যকর প্রতিনিধিত্ব ও মতামতের সুযোগ নিশ্চিত করা; দীর্ঘমেয়াদি, কম ব্যয়বহুল ও পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়নের ব্যবস্থা করা; সমন্বিত ও বহু-বছরভিত্তিক অর্থায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থায়নকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা; এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণকারী দেশগুলোর জন্য নমনীয় রূপান্তর সহায়তা ও অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। তাই উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে এসব দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থায়নের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। বক্তব্যে বাংলাদেশের ‘এসডিজি ভিলেজ’ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ড. টিটুমির। তিনি এটিকে এমন একটি সমন্বিত ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীনির্ভর উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তব ও দৃশ্যমান উন্নয়নে রূপ দেওয়া হচ্ছে।
লিডার্স ডায়ালগে ইউরোপীয় কমিশনের তেরেসা রিবেরা, বেনিনের অর্থ ও অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যারিস্টিড মেদেনু এবং পানামার সামাজিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী বিট্রিজ কার্লেস দে আরাঙ্গো অংশ নেন। আলোচনা সঞ্চালনা করেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের শেরউইন ব্রাইস-পিজ।