নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে দাঙ্গা পুলিশের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো গেছে। ২০ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় ডাইভার্সিটি প্লাজা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে সামনে রেখে তাকে স্বাগত জানাতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় জড়ো হন। একই সময়ে কাছাকাছি এলাকায় আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ‘যেখানে তারেক, সেখানেই প্রতিরোধ’ স্লোগান দিয়ে অবস্থান নেন।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগান থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কি। পরে তা গালিগালাজ ও পরস্পরের দিকে তেড়ে যাওয়ার ঘটনায় রূপ নেয়। এ সময় আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে টানানো কয়েকটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, উভয় পক্ষের কয়েকশ নেতা-কর্মীর মধ্যে তুমুল ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বেশ কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে অর্ধশতাধিক দাঙ্গা পুলিশ সদস্য উভয় পক্ষকে আলাদা করে মাঝখানে অবস্থান নেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে একপর্যায়ে শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। এ সময় পুরো এলাকা পাল্টাপাল্টি স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। যানবাহন চলাচলও কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। আতঙ্কিত পথচারীরা নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়।
এদিকে, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী একটি ফ্লাইট জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। তার তিন দিনের নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরেও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ নেতা ইমদাদ চৌধুরী জানান, ‘যেখানে তারেক, সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেএফকে বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগের প্রায় এক হাজার নেতা-কর্মী অবস্থান করবেন। এ কর্মসূচির বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে বিএনপি নেতা গোলাম ফারুক শাহীন জানান, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে জেএফকে বিমানবন্দরে বিএনপির শত শত নেতা-কর্মী উপস্থিত থাকবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেএফকে বিমানবন্দরে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উভয় পক্ষকে পৃথক ও নিরাপদ দূরত্বে রাখতে পুলিশ ব্যারিকেড ও নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করতে পারে বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও অনুরোধ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নিউইয়র্ক সফরের সময় তার সফরসঙ্গীদের কয়েকজন আওয়ামী লীগের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবার তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে নিউইয়র্কে বিশেষ করে বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।