শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: সাইবার অপরাধ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩২ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
সোমবার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের অধিকাংশই প্রিন্স গ্রুপ ট্রান্সন্যাশনাল ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন (TCO)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আমেরিকানদের লক্ষ্য করে প্রতারণার ঘটনায় সংগঠনটির বিরুদ্ধে এর আগে একাধিক নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে থাকা যেকোনো বৈধ মার্কিন ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের (INA) 212(a)(3)(C) ধারা অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে সাইবার অপরাধীরা প্রতি বছর আমেরিকানদের কাছ থেকে কয়েক হাজার কোটি ডলার হাতিয়ে নেয়। দপ্তরটির হিসাবে, ২০২৫ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াভিত্তিক ট্রান্সন্যাশনাল ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশনগুলো—এর মধ্যে প্রিন্স গ্রুপও রয়েছে—সাইবারভিত্তিক প্রতারণার মাধ্যমে আমেরিকানদের কাছ থেকে অন্তত ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেয়।
প্রিন্স গ্রুপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ও এর আগে ব্যবস্থা নিয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ট্রেজারি বিভাগ সংগঠনটির ১৪৬ সদস্য ও সহযোগীকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। এরপর ২০২৬ সালের জুনে আরও ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ২০২৫ সালের পদক্ষেপে প্রিন্স গ্রুপকে একটি ট্রান্সন্যাশনাল ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন হিসেবে চিহ্নিত করে। সংস্থাটি বলেছে, সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের মধ্যে অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণা, অর্থপাচার এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত কর্মকাণ্ড ছিল।
নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সাইবার অপরাধ ও প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি অভিবাসন ও ভিসা-সংক্রান্ত ব্যবস্থাও ব্যবহার করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আমেরিকান নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার প্রতারণা এবং অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিদ্যমান আইনি ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করবে।