ডাক

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করেছে ইরান

শিব্বীর আহেমদ, ওয়াশিংটন ডিসি: হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের তৈরি ড্রাইভ-এলডি (Dive-LD) মডেলের একটি স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ভেহিকল। প্রায় ১৯ ফুট (৫ দশমিক ৮ মিটার) দীর্ঘ এই ড্রোনটি সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি, মাইন শনাক্তকরণ ও অপসারণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পানির নিচের কেবল ও পাইপলাইন পরিদর্শনের মতো কাজে ব্যবহার করা যায়।

আইআরজিসির নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি জটিল গোয়েন্দা ও সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ড্রোনটি আটক করা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক চালকবিহীন সামুদ্রিক প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, একটি মার্কিন আন্ডারওয়াটার ড্রোন হারিয়ে গেছে এবং সেটি উদ্ধারের এক দিনেরও বেশি সময় আগে ত্রুটির কারণে অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। পেন্টাগনের একজন মুখপাত্রের মতে, ড্রোনটি আঞ্চলিক জলসীমায় একটি জরিপ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং এটি পুরোনো মডেলের ছিল। এতে কোনো শ্রেণিবদ্ধ সোনার বা রাডার সরঞ্জাম ছিল না এবং এটি সংবেদনশীল তথ্যও সংগ্রহ করেনি।

ড্রোনটির নির্মাতা অ্যান্ডুরিলও একটি আন্ডারওয়াটার ভেহিকল হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, Dive-LD এমন একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, যা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালনার জন্য তৈরি এবং প্রয়োজনে এর ক্ষতি বা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই এটি ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে।

অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, ড্রাইভ-এলডি (Dive-LD) একবার ঘাঁটিতে ফিরে না গিয়ে সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত পানির নিচে কাজ করতে পারে এবং প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতায় ডুব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের দাম প্রায় ২৫ লাখ ডলার বলে মার্কিন সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যেই মার্কিন ড্রোন জব্দের ঘটনা ঘটল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

আধুনিক যুদ্ধে চালকবিহীন সামুদ্রিক প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের দিকটিও এই ঘটনা সামনে নিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ নৌ-নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, মাইন শনাক্তকরণ এবং সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণে স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার সিস্টেমের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ড্রোনটি কীভাবে জব্দ করা হয়েছে সে বিষয়ে ইরানের বর্ণনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।